(880)-2-9111260

Blog

“আলোর দিশারী”

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ ভাগ যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। এদের বেশির ভাগই ঘরের কোনে একাকী নিভৃতে সামাজিক মেলা-মেশা, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদি সব থেকে বঞ্চিত হয়ে এক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সহায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা, সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা ও সামাজিক মর্যাদার অভাবকেই এর জন্য দায়ী করা যায়। তবে এদেশের বেশিরভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজেকে ভিন্নভাবে সক্ষম হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন না তার প্রধান কারণ তাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা এবং প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা। প্রতিবন্ধি মানুষ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা কাটাতে এবং অন্ধদের সহায়তা করতে কাজ করে যাচ্ছে ‘Dishari: An Institutive Approach to Innovate a low cost Braille Embosser’

মানুষ বিভিন্ন কারণে অন্ধত্বের শিকার। তবে বেশির ভাগ মানুষ জন্ম থেকেই অন্ধ হয়। এর কারণ হল, সন্তান সম্ভবা মায়ের প্রতি আমাদের উদাসীনতা, প্রকৃত পক্ষে আমাদের সচেতনতার অভাবে এইসব শিশুরা অন্ধ হয়ে যায়। একটি অন্ধ শিশুর সমাজে বেড়ে ওঠা সহজতর হয় না। তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে নিজের সাথে, একই সাথে আমাদের অবহেলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বেঁচে থাকার তাগিদে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয়। ফলে শিক্ষার অধিকার থেকে অধিকাংশ অন্ধ প্রতিবন্ধি মানুষ বঞ্চিত হয়। এই অন্ধ মানুষরা যাতে শিক্ষার সুযোগ পায় এবং তাঁদের শিক্ষা পদ্ধতি যাতে সহজতর হয় সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে দিশারী’ নামক সংগঠনটি। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে অন্ধদের জন্য সহজতর শিক্ষাপদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। Braille Embosser পদ্ধতি অবলম্বন করে একজন অন্ধ মানুষ সহজেই তার ভাষা লিখতে এবং খোদাই করতে পারবে। তাই এই পদ্ধতিতে তাঁদের শিক্ষা দেয়ার জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সংগঠনটি, যেমন, ব্রেইল পদ্ধতি আরো উন্নতকরণ, তাঁদের তত্ত্বাবধানের জন্য অনুধাবনক্ষমতা সম্পন্ন রোবট তৈরি, প্রতিবন্ধিদের জন্য সহজতর মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা। এই সব কিছু করার জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ, আর এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে দিশারী সংগঠনটি।

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের সকল ধরনের প্রতিবন্ধী নাগরিকের সমমর্যাদা, অধিকার, পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রতিবন্ধিত্বের কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণা/প্রকাশনা ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ। এ লক্ষ্যে জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও উৎসবসমূহ উদযাপন করা। প্রতিবন্ধীদের জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকরণ এবং সহযোগিতা প্রদান। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগে এই কাজটি নিরলস ভাবে করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

মোহাম্মদ জাকারিয়া হায়দার
বিএসসি ইনজিনিয়ারিং (শেষ বর্ষ)
খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯