(880)-2-9111260

Blog

সংস্কৃতির মশাল হাতে শ্রুতি

সংস্কৃতি একটি দেশের ধারক-বাহক সবকিছুই। একটি দেশের নাম-পরিচয়, ইতিহাস, আচার সবকিছুর মূলে রয়েছে তার সংস্কৃতি। এ কথা, অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই আকাশ সংস্কৃতি এবং বিশ্বায়নের যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের কারণে সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা কিছুটা কঠিন। এরূপ সময়ে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন “শ্রুতি” বিরুদ্ধ-স্রােতে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে। 

শ্রুতির জন্ম এ শতাব্দীর একদম গোড়ার দিকে। ১ জানুয়ারীর ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশে বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করা। এ লক্ষ্যে শিশু-কিশোরদের আবৃত্তি , সঙ্গীত , চারুকলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের কাজকর্মের উদ্ভাবনি কৌশলের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা এ সংগঠনের কার্যকারিতা বুঝতে পারব। তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বিজয় দিবসের দিন সকাল বেলা প্রায় চারশো সিশু-কিশোরদের নিয়ে বিজয় র্যালির আয়োজন যেখানে বর্তমান প্রজন্মের মুখে থাকে “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে” কিংবা “ও আলোর পথযাত্রী এখানে থেমো না” র মত অবিনাশী গান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিন তারা আয়োজন করে বর্ণমালার মিছিল। নগ্ন পায়ে বর্ণমালা হাতে এগিয়ে চলে ভবিষ্যৎ জাতির কাণ্ডারিরা। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করা হয় মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চার জন্য। এছাড়াও বছরজুড়ে তাদের অন্যান্য আয়োজন গুলোর মধ্যে থাকে পিঠা উৎসব, বর্ষবরণ উৎসব, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, লোক উৎসব, পাঠচক্র ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃত্তি প্রদান, শিশু- কিশোর ষাণ্মাসিক-ত্রৈমাসিক ছোট কাগজ ও গ্রন্থ প্রকাশনা ইত্যাদি। প্রতিটি আয়োজনের পদ্ধতি কিংবা কার্যকারণ দেখে বোঝা যায় যে নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির একেবারে শিকড় থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং একাগ্রচিত্তে করে যাচ্ছে “শ্রুতি” নামের এ সংগঠনটি। এখানে কিছু কথা বলে রাখা ভাল যে, বাইরের সংস্কৃতির প্রভাবেই হোক কিংবা জীবনযাপনের পরিবর্তনের কারণেই হোক আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে নিয়ে খুব বেশি সচেতন নয়, যার কারণে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে আমরা তুলে দিতে পারছি না সংস্কৃতির মশাল। এ কাজের পরিণতি কিন্তু অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা, নতুন প্রজন্ম যদি তাদের সংস্কৃতি বলা চলে শিকড়কে ভুলে যায়, তাহলে একটি জাতির জন্য এর চাইতে দুর্ভাগ্যের কিছু আর হতে পারে না। অন্যদিকে, সকল কুসংস্কার কিংবা অন্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি। কাজেই আমরা যদি ঠিকভাবে আমাদের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে না পারি , তাহলে জাতি হিসেবে ও খুব ভয়ঙ্কর পরিণতি আমাদের বরণ করতে হতে পারে।“শ্রুতি”র মত সংগঠনগুলোকে তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিৎ।

তাই সংস্কৃতির মশাল হাতে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলুক শ্রুতি। নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিক আমাদের সংস্কৃতির অজস্র দ্বার। ঘুচে যাক গ্লানি, মুছে যাক জরা।

সুকান্ত গুপ্ত
বিএসসি কম্পিউটার বিজ্ঞান
এ-৪/৪৯ , পুরানলেন
সিলেট-৩১০০