প্রকৃতির জন্য প্রাণের জন্য
April 22, 2015
খামার ও বায়োগ্যাসে আনিস মোর্শেদের নতুনদিন
April 22, 2015
Show all

অন্তর্জালে দেশীয় খাবারের পসরা

দেশীয় খাবারের স্বাদ বাঙালি মাত্রই জিভে জল নিয়ে আসে। সেই খাবার যদি হয় রাসায়নিকমুক্ত যাকে বলে অর্গানিক তাহলে তো কথাই নেই। অনলাইনে দেশীয় মুখরোচক নানা খাবারের পসরা সাজিয়েছেন খুলনার মেয়ে আজিজা খাইরুন সিজি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সে খাবারের স্বাদ বিদেশের মুখেও পৌঁছে গেছে। 

আজিজা খাইরুন সিজি

চিরায়ত দেশীয় পণ্যের সাথে বর্তমান প্রজন্মের সংশ্লেষ খুব বেশী নয়। পাশ্চত্যের জীবনাচরণ আমাদের জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির মূল উপকরণগুলোকে। ক্রমেই ভুলতে থাকা নিজেদের শেকড়ের সাথে সেতুবন্ধনের ইচ্ছে থেকে শুরু হয় সিজির অনলাইন খাবারের দোকান “ফুডশেলফ”। চিড়ে, মোয়া, মধু, মুড়ি। নারকেল তেল, সর্ষের তেল ইত্যাদি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকে স্মৃতিকাতর করে তুললেও তরুণরা এসব দেশীয় খাবারের স্বাদ সম্পর্কে খুবই কম ধারণা রাখে। সিজির ফুডশেলফ মূলত এসব পণ্য নিয়েই কাজ করে। তিনি জানালেন ফুডশেলফের শুরুটা ছিল মধুর মাধ্যমে। অর্গানিক মধু বাঙালির রসনা বিলাসের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরও বটে। ফলে সিজির সুনাম ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি। আস্তে আস্তে সিজি অন্য পণ্যগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন। সাফল্যও ছুঁয়ে যায় তাঁকে। যশোরের গুড় ও কুমড়ো বড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার কিনতে পেরে খুশী মা-খালারাও। পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্ম বাঙালি রসনাবিলাসের সাথে পরিচিত হয়ে বিস্মিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলা খাবারের বিশ্বায়ন করতে হলে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই বলে মনে করেন সিজি। গুণেমানে আমাদের দেশের পণ্যও যে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে কম নয় তা প্রমাণের জন্য আমাদের পণ্যের সহজলভ্যতার দিকে জোর দেয়া দরকার। সিজির মতে এক্ষেত্রে ইন্টারনেটের চেয়ে মূখ্য ভূমিকা আর কিছু রাখতে পারে না। পাশাপাশি তিনি মনে করেন ফাস্টফুডে আসক্ত তরুণ প্রজন্ম দেশীয় খাবারের সাথে পরিচিত হতে পারলে মজে থাকবে নিজেদের খাবারেই। অনার্স পড়ুয়া সিজি “ফুডশেলফ” এর মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছেন। তিনি চান দুঃস্থ নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকেও সমাজের সামনের কাতারে নিয়ে আসতে। নারী এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে এমনটাই তাঁর বিশ্বাস। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগামীতায় নারীদের বেশী করে সম্পৃক্ত করার স্বপ্ন বুনে চলছেন তিনি।

বাঙালির রসনা বিলাসের খ্যাতি জগৎজোড়া। গোলাভরা ধান আর পুকুরভরা মাছের সে সোনালী দিনের মতো আস্তে আস্তে লুপ্ত হতে বসেছে অন্যান্য চিরায়ত খাবারগুলোও। আজিজা খাইরুন সিজি সে খাবারগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে বাঙালি সংস্কৃতির হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। তাঁর “ফুডশেলফ” কেবল আত্মনির্ভরতার সোপান নয় বরং নিজেদের শেকড়ের সাথে যুক্ত বন্ধনও বটে।

 

আজিজা খাইরুন সিজি
ইংলিশ অনার্স (শেষ বর্ষ)
ফরাজিপাড়া, খুলনা