স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার প্রয়াস জীবনের
April 22, 2015
নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন খুলনার লিখন
April 22, 2015
Show all

আড্ডা থেকে ইরার দারুণ কিছু

কেমন হয় যদি আড্ডা দিতে গিয়ে দেখেন পথশিশুদের প্রাত্যহিক জীবন? এড়িয়ে যাবেন? নাকি বন্ধুদের সাথে এনিয়ে দু-দশ কথা বলে বাড়ি ফিরবেন? চট্টগ্রামের জনাকয়েক তরুণও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। না, তারা চোখ বুজে থাকতে পারেননি। সমাজ বদলের অদম্য ইচ্ছে থেকে তাঁরা জন্ম দেন “ইরা” নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের।  সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাঁরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন তারুণ্যের সুপ্ত প্রতিজ্ঞা নিমেষে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

19.-Md-Abdur-Rahimসান্ধ্য আড্ডা দিতে গিয়ে চোখে পড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা ক’জনই বা মনে রাখে? চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন ও প্রবর্তক মোড়ের ভবঘুরে শিশুদের ভুলতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন অভাবের সাথে প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে শিক্ষাবঞ্চিত অনিশ্চিত ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। এদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ থেকে তাঁরা জন্ম দেন “ইরা” নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের। আভিধানিক অর্থে যা জীবনের প্রতিশব্দ। কাজের জন্য তাঁরা বেছে নেন মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত ষোলশহর আই ডব্লিউ কলোনিকে। প্রাথমিকভাবে কুড়ি জন শিশুকে পাঠদান শুরু করেন তাঁরা। যাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল থেকে ঝরে পড়েছিল। এই শিশুদের যাবতীয় শিক্ষার দায়িত্ব নেয় “ইরা”। পাশাপাশি নিজেদের খরচে তাঁরা কখনো স্কুলমুখো না হয়া জনাদশেক শিশুকে স্কুলে ভর্তি করান। “ইরা”র নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে আছে সপ্তাহে তিন দিন পাঠদান, মাসিকভাবে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি মেটানো, স্কুলের পোশাক সরবরাহ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাস্থ্যগত সচেতনতা তৈরি করা। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি “ইরা” নিয়মিতভাবে পথশিশু ও দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। জাতীয় বিভিন্ন দিবসে শিশুদের মাঝে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নিয়মিত উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদের অর্থে পরিচালিত “ইরা”র পরিসর দিন দিন বড় হচ্ছে। কখনো কখনো অর্থের সংস্থান নিয়ে চিন্তায় ভ্রূ কুঁচকে গেলেও হাল ছাড়েননি তরুণেরা। নিজেদের পকেট থেকে যাবতীয় ব্যয় বহন করেছেন মনের আনন্দে। আশেপাশের মানুষ যাঁরা তরুণদের এ উদ্যোগকে নিছক খেয়াল ভেবে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরাই এখন “ইরা”র প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

“ইরা”র জন্মের গল্পটা কোন রূপকথা নয়। তারুণ্যের মিলন যে ভালো কিছুর জন্ম দিতে পারে তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ সংগঠনটি। নতুন দিনের জন্য এমন আড্ডালব্ধ উদ্যোগ এদেশের যে খুব প্রয়োজন।

মোহাম্মাদ আবদুর রহিম
বি এস সি
হাজী আব্দুল করিম
গ্রাম: বিবির হাট বড়বাড়ী
ডাকঘর: আমিন জুট মিলস
থানা: পাচ লাইশ, জেলা: চট্টগ্রাম