সায়েন্সের জন্য কাজ করছে ট্যালেন্ট সায়েন্স ক্লাব
April 22, 2015
চা বাগানে মোহনের মোহনীয় অবয়ব
April 22, 2015
Show all

আলো ছড়াচ্ছে আশার আলো পাঠশালা

মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে নাকি থাকে একটা বড় স্বপ্ন। ঠিক তেমনি এক স্বপ্নকাতর তরুণ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের তরুণ কুমার বিশ্বজিৎ বর্মন। যাঁর প্রতিষ্ঠিত “আশার আলো পাঠশালা” হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে ঘুচিয়েছে নিরক্ষরতার অন্ধকার।  “আশার আলো পাঠশালা”র শুরুটা সাধাসিধে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির লক্ষ্য ছিল বিনামূল্যে শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা ও পাঠাগার গড়ে তোলা। দারিদ্র্যের অমোঘ কষাঘাতে জর্জরিত নাগেশ্বরী বাংলাদেশের অন্যতম পশ্চাতপদ জনপদ। “নূন আনতে পান্তা” ফুরানো মানুষগুলোর কাছে শিক্ষার ব্যয় বহন অনেকটা অলীক কল্পনার মতো। কিন্তু বিশ্বজিৎ যে অন্য ধাতুতে গড়া। তাঁর বিশ্বাস ছিল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র শিক্ষা। এজন্য শিক্ষিত হতে হবে শিশুদের। মন্ত্রটা মাথায় রেখে বিশ্বজিৎ শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান শুরু করেন। শুরুতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৭০ জন। তারপর সংখ্যাটা বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। আশেপাশের মানুষও উৎসাহ দেন এই শুভ উদ্যোগে।

21.-Kumar-Bishajit-Barman

আস্তে আস্তে অন্য সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ শুরু করেন বিশ্বজিৎ বর্মন। প্রচারাভিযান শুরু করেন বাল্য বিবাহ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তিনি “আশার আলো পাঠশালায়” শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান। পুরো নাগেশ্বরীতে বিশ্বজিৎ বর্মন এখন পরিচিত নাম। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বজিতের কাজের। বলেছেন সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাঁর মতো এগিয়ে আসা উচিত সবাইকেই। সংখ্যার হিসেবে বিশ্বজিৎ ও তাঁর সহযোদ্ধাদের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইতোমধ্যে তারা ২১৭টি বাল্য বিবাহ বন্ধে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের প্রেরণায় মাদকের নীল ছোবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অজস্র তরুণ। ২০১৪ সালের “আশার আলো পাঠশালা” থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ছাব্বিশ জন শিক্ষার্থী। যেখানে সবাই তো উত্তীর্ণ হয়ই সাথে সাথে নয় জন এ প্লাস গ্রেড অর্জন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে পুরো এলাকায়। বিশ্বজিতের জন্য যা ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।
21.-Kumar-Bishajit-Barman2

শুরুটা মসৃণ ছিলো না বিশ্বজিৎ বর্মনের। অসংখ্য চড়াই-উতরাই তাঁকে পেরুতে হয়েছে দাঁতে দাঁত চেপে। কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। এজন্যই অনন্য তাঁর “আশার আলো পাঠশালা”। সাফল্যের কৃতিত্ব অবশ্য একা নিতে চান না বিশ্বজিৎ। আলোকিত মানুষের মতো ভাগ করে দিতে চান স্থানীয় মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে। এমন মানুষই তো গড়বে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা।

কুমার বিশ্বজিৎ বর্মন
অনার্স ২য় বর্ষ
গ্রাম: পূর্ব রামখানা, পোস্ট: নাখারগঞ্জ
উপ: নাগেশ্বরী, জেলা: কুড়িগ্রাম