বই ভালোবেসে জীবন ভালোবেসে
April 22, 2015
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য জাদুকরি চশমা
April 22, 2015
Show all

কৃষ্ণচূড়ায় লাল বাঙালিয়ানার সূর্য

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভিত্তি আমাদের মহান রাষ্ট্র বাংলাদেশের যা নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অসংখ্য লাশ ও রক্ত সমুদ্রের মধ্য দিয়ে অর্জিত। আশার কথা বাঙালির গর্বের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলা সংস্কৃতির উত্তরাধিকার শিহরিত করে তরুণ প্রজন্মকে। তার ফলশ্রুতিতে তাঁরা দেশব্যাপী বাংলা সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চির উড্ডীন পতাকা বয়ে চলছেন। এমনই এক উদ্যোগ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন “কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ”। চিরায়ত বাংলার সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক সংগঠন “কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ” প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও সংস্কৃতিমনা মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি। পাশাপাশি তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসার, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং তরুণ ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক বের করে আনার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করে সংগঠনটি। তাঁরা তরুণদের মধ্যে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে থাকেন এবং মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। তাঁরা সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকেন। বাঙালি জাতির নিজস্ব পঞ্জিকা অনুসরণ করে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তা উদযাপনে অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে শিশুদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন, মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন, মহান শহীদ দিবসে ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তাঁদের সংগঠনের দুইজন শিল্পী ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী তালিকায়। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রসার ও বিকাশ লাভ করছে সংগঠনটির মাধ্যমে। “কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ” পুরোপুরি সদস্যদের মাসিক চাঁদায় চালিত। এমন অনেক সংগঠন গড়ে উঠলে তবেই না বিশ্বময় ছড়িয়ে যাবে বাংলা সংস্কৃতি।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনায় কাজ করে যাচ্ছে “কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ”। পাশাপাশি প্রগতিশীলতার চর্চা করে তাঁরা বাঙালির মধ্যপন্থার আবহমান বিকাশে অবদান রাখছেন। “ভিশন ২০২১” বাস্তবায়নে এমন সংগঠনগুলোই জোরালো ভূমিকা রাখবে। স্বাধীনতার লাল সূর্যের দিকে তাকিয়ে বলবে বিজয়ের ইতিহাস গান, নৃত্য অথবা শিল্পের অন্য কোন প্রশাখায়।