(880)-2-9111260

Blog

ধ্রুপদী পরিবারের ধাবমান অগ্রযাত্রা

বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “ধ্রুপদী পরিবার” ধ্রুপদী সংগীত ও সাহিত্যের মতো অনিঃশেষ উৎসাহে কাজ করে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সম্মিলনের জন্য বিখ্যাত হবিগঞ্জ জেলায়। সমাজ ও রাজনীতি সচেতন সংগঠনটি কাজ করছে এমন কিছু বিষয় নিয়ে যা একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীল। কাজের বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতায় “ধ্রুপদী পরিবার” ইতোমধ্যে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে। বিধি নিষেধের চাপিয়ে দেয়া আর্গল ভেঙে তাঁরা কাজ করছেন প্রগতির আলোকিত সুমহান পথে।
একতি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে ধ্রুপদী পরিবারের জন্ম হয় ২০০৩ সালে। তাঁদের উল্লেখযোগ্য কাজের ফিরিস্তি দিতে গেলে অনেকটা পরিসর ও সময়ের প্রয়োজন। সংক্ষেপে বলতে গেলে তাঁরা কাজ করছেন বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে। প্রথমেই বলা যায় “অমর একুশে বইমেলা” নিয়ে। কে না জানে মানুষের মনের অন্ধকার দূর করার প্রথম ও প্রধান উপকরণ বই।
9.-Mohiuddin-Kawser
চিন্তা চেতনার দৈন্য ঘোচাতেও এর জুড়ি নেই। বাংলা একাডেমী আয়োজিত “অমর একুশে বইমেলা”র অনুকরণে “ধ্রুপদী পরিবার”ও বিগত ছয় বছর ধরে আয়োজন করে চলেছেন বইমেলা। ফলে মানুষের মধ্য আগ্রহ বেড়েছে বইয়ের প্রতি। জ্ঞানের নতুন নতুন শাখাগুলোর সাথে তাঁরা অবলীলায় পরিচিত হতে পারছেন। তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার চর্চা না থাকা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। এই শূন্যতা দূর করতেই “ধ্রুপদী পরিবার” দুটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে আয়োজন করেছে নির্বাচনী সংলাপের। যা জনপ্রতিনিধিদের সাথে জনগণের সংযোগ সৃষ্টির অন্যতম সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। তৃণমূল পর্যায়েও এ ধরনের উদ্যোগকে বলা যায় নজিরবিহীন। “ধ্রুপদী পরিবার” মনেপ্রাণে রাজনীতি সচেতন। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশে গণজাগরণ সৃষ্টি হলে তাঁরা এ আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে “প্রজন্ম চত্বরে উড়ছে কবিতারা” শীর্ষক কাব্য সংকলন প্রকাশ করেন। যা সাড়া ফেলে দেয় মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী তরুণ সমাজে। “ধ্রুপদী পরিবার” মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে নিঃশঙ্কোচে। প্রতি মাসে “ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক” শীর্ষক ক্যাম্পের মাধ্যমে তাঁরা বিনামূল্যে বিভিন্ন গ্রামের সুচিকিৎসা বঞ্চিত মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা দশ হাজারের অধিক। এছাড়া তাঁরা প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ারের বন্দোবস্ত করেছেন। দশ বছর ধরে হবিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশ নিচ্ছে “ধ্রুপদী পরিবার”।

জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁরা র‍্যালিরও আয়োজন করেছেন। মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। সংস্কৃতিবান মানুষমাত্রই মৌলবাদের বিষবাষ্প থেকে মুক্ত। সেজন্য “ধ্রুপদী পরিবার” সংস্কৃতিমনা মানুষ গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর আবাস হবিগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিচরণেও পিছিয়ে নেই “ধ্রুপদী পরিবার”। সীমিত আকারে বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি তাঁদের চালানো ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং প্রোগ্রামে উপকৃত হয়েছে অজস্র তরুণ। এছাড়াও সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন উদ্যোগে শামিল হয়ে শুভ শক্তির পাশে অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। তার মধ্যে “ব্লাড ব্যাংক” কর্মসূচীর কথা আলাদা করে বলতেই হয়। স্থায়ী একটি ঠিকানা পেলে তাঁদের এ কাজটি আরো বিস্তৃত হতে পারে।

“ধ্রুপদী পরিবার” একটি অনন্য সংগঠন হিসেবে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে নিভৃত জেলা হবিগঞ্জে। মুল সংগঠনটির ছয়টি শাখা জেলাজুড়ে শিকড়ের বিস্তার ঘটিয়েছে। নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে সমাজ ও সমাজ সচেতন মানুষের জন্য।

মহিউদ্দীন কাওসার
এমবিবিএস
সায়েদা পিয়ারা ভবন
চুনায়ুঘাট, হবিগঞ্জ