আড্ডা থেকে ইরার দারুণ কিছু
April 22, 2015
চাঁদের আলোয় কয়েকজন আলোকিত যুবক
April 30, 2015
Show all

নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন খুলনার লিখন

একজন নারীই পারে অন্য আরেক নারীর মর্ম যাতনা বুঝতে। একজন নারীই পারে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। বারবার হোঁচট খেয়ে সমাজের মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার দৌলতপুর উপজেলার ফারজানা খান লিখন। নিজের উদ্যোগে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতার সোপানের সন্ধান দিচ্ছেন।

নারীর জন্য সমতা আনায়নের সংগ্রামে লড়াই করতে শেখাচ্ছেন বুক চিতিয়ে।

22.-Farzana-Khan-Likhonজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী লিখন নারীদের নিগ্রহ দেখেছেন গ্রামে। মুখ লুকিয়ে কাঁদা অসহায় নারীদের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা থেকেই তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কিছু করার কথা ভাবেন। এইজন্য মূলত নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নিজের কলেজের গেইটের সামনে একটা দোকান ভাড়া নিয়ে বিনামূল্যে নারীদের মধ্যে কম্পিউটার শিক্ষা দিতে থাকেন লিখন। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য শর্ত হিসেবে রাখেন যে তাঁরা অন্য কয়েকজন নারীকেও বিনামূল্যে কম্পিউটার শিক্ষা দেবেন। এইভাবে আস্তে আস্তে স্থানীয় নারীরা ব্যাপকভাবে কম্পিউটার শিক্ষা পেতে থাকেন। এই শুভ উদ্যোগে শামিল হন আরো কয়েকজন। সবাই মিলে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ডিজিটাল সেন্টার”। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে সঙ্গতি রেখে এই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের অর্ধেক সদস্য নারীদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে ডিজিটাল ও তথ্য প্রযুক্তিতে সফল বানানো সম্ভব নয়। সেই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছেন লিখন ও তাঁর বন্ধুরা। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশপাশি বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, যৌতুকপ্রথা প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের মধ্য সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছেন। শিশু অধিকার সনদের ব্যাপারে অজ্ঞ গ্রামের সরলমনা মানুষদের মধ্যে তাঁরা সচেতনতার বীজ বুনে দিচ্ছেন যেন শিশুরা অন্তত শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। এছাড়াও লিখন সীমান্তবর্তী জেলা খুলনার একটি মূল সমস্যা নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। বস্তির সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দালালের প্রলোভন থেকে মুক্ত করে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী করে তুলছেন। ফলে তারা আত্মনির্ভরশীলতার পথ খুঁজে পাচ্ছেন।

ফারজানা খান লিখনের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়েছেন মালালা ইউসুফজাই। অনেকটা নিভৃতে থেকে নারী ও শিশুদের জন্য লিখন যা করছেন তার কার্যকরিতা প্রকৃতপক্ষে টুপিখোলা অভিবাদন লাভের যোগ্য। লিখন ও তাঁর সংগঠন “ডিজিটাল সেন্টার” প্রমাণ করেছে নারীদের সবচেয়ে বড় সহায় হতে পারে একজন নারীই।

ফারজানা খান লিখন
এইচ এস সি
ডাকঘর: কুয়েট ৯২০৩
দৌলতপুর, খুলনা