(880)-2-9111260

Blog

প্রকৃতির জন্য প্রাণের জন্য

প্রখ্যাত বাঙালি মনীষী স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “জীবে দয়া করে যে জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”। সে মন্ত্র বুকে আগলে রেখে কাজ করে যাচ্ছে নাটোরের “ক্রিয়েটিভ সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন”। তরুণ জুয়েল রানার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি পাখিসহ বন্যপ্রাণির সেবায় আত্মনিবেদন করে ইতোমধ্যে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।  এলাকায় পাখিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত জুয়েল তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেছেন “বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০১৪”।

10.-Jewel-Ranaবাড়ির পাশে পাখিদের আনাগোনা বাঙালি সমাজের অবিচ্ছেদ্য আবহমান চিত্র। সাহিত্য থেকে চিত্রকলা বাঙালি জীবনের প্রতিটি খন্ডচিত্রে আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে পাখিদের উপস্থিতি। কখনো উপকথার ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি কখনো না জাতীয় পাখি দোয়েল আমাদের মনে একটি সবুজ ভোরের মতো দোলা দিয়ে যায়। পাখিদের সাথে বাঙালির এমন চিরায়ত সংশ্রব মূর্ত হয়েছে তরুণ জুয়েল রানার মনেও। শৈশব থেকেই পাখিদের সাথে তাঁর সখ্য। বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় ও গাছগুলোতে বাস করা বক, বাদুড়, পানকৌড়ি, শামুকখোল, দোয়েল, বুলবুলি, কাঠঠোকরা, মাছরাঙ্গা, শালিক 10.-Jewel-Rana2ইত্যাদি পাখিদের দেখে দেখে জুয়েল রানার বেড়ে ওঠা। কিন্তু পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস করে ও অবাধে পাখি শিকার করে মানুষের লোভের বলি হচ্ছিলো প্রকৃতির অসামান্য সুন্দর সৃষ্টি পাখিরা। জুয়েল রানা পাখিদের জন্য কিছু করার চিন্তা থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার কাজ শুরু করেন। পাখিরা মানুষের জন্য কতটা উপকারী তা এলাকার মানুষকে বোঝান। কেউ পাখি শিকারের চেষ্টা করলে তাঁকে নিবৃত্ত করেন ও পাখির আবাস ধবংসের চেষ্টাগুলো প্রতিহত করেন। ফলে তাঁর গ্রামটি পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। কোন ক্ষতি করা হবে না বুঝতে পেরে পাখিরাও তাঁর গ্রামে নির্ভয়ে ডেরা বাঁধছে। জুয়েল রানার প্রচেষ্টায় শামিল হয়েছেন গ্রামেরই অন্যান্য অনেক তরুণ। তাঁদের মিলিত প্রচেষ্টায় রক্ষা পাচ্ছে পাখিদের প্রাণবন্ত জীবন। শিশুরা শৈশবে পরিচিত হতে পারছে পাখিদের গানের সাথে। এভাবে বাঙালি জীবনের মূলস্রোতে শামিল হচ্ছে তারা। পাখি ছাড়াও জুয়েলরা অন্যান্য প্রাণিদের সংরক্ষণ ও প্রতিপালনে এগিয়ে এসেছেন। অসুস্থ বন্যপ্রাণিদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছেন বন কর্মকর্তাদের সহায়তায়। ফলে তাঁদের এলাকায় বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষ হিসেবে জন্মানোর কারণে প্রকৃতির প্রতি আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। বোবা ও অসহায় প্রাণিকুলের সেবা করে তার দায় অনেকটাই মেটাচ্ছেন “ক্রিয়েটিভ সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন”। তাঁদের মতো এগিয়ে এলে একদিন আমাদের পুরো দেশটাই মূর্ত হবে প্রাণের চাঞ্চল্যে।

মো: জুয়েল রানা
এইচএসসি (বিএসএস অধ্যয়নরত)
গ্রাম: সমসখলসী, ডাক: হরিদাখলসী
উপজেলা: নলডাঙা, জেলা: নাটোর