(880)-2-9111260

Blog

ভূমিপুত্র নাজমুলের দৃপ্ত শপথে বদলে যাচ্ছে কৃষি

প্রাগৈতিহাসিক কৃষি পদ্ধতির আবহমান চর্চা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে অল্প কয়েক বছর হলো। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মিলছে না বাড়েনি কৃষি সম্পর্কিত অসংখ্য জিজ্ঞাসার উত্তর। নিজ গ্রামের কৃষকদের বন্ধু হয়ে এমনি কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন নাজমুল হক। যার সাথে যুক্ত আছে বাংলাদেশের আটষট্টি হাজার গ্রামের অগণন কৃষকের সাফল্য। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নাজমুল নিজের শেকড় স্মরণে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক ও কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য।

SAM_0063
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষ পড়ুয়া নাজমুল হক গাঁয়ের ছেলে। কৃষক পিতার সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকে পরিচিত ছিলেন কৃষির অনেক খুঁটিনাটি জিনিস সম্পর্কে। ফসলের মাঠ ছোটবেলা থেকে তাঁকে অনেক টানতো। অবারিত সবুজ ফসলে শামিল হতে তিনি উচ্চশিক্ষার বিষয় হিসেবেও বেছে নিয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান। কৃষি নিয়ে নিজের জানাশোনার পরিধি বাড়তে থাকার সাথে সাথে নাজমুল অনুধাবন করেন তাঁর বাবা ও গ্রামের অন্যান্য কৃষকেরা কৃষির অনেক মৌলিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। ফলে ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নাজমুল সিদ্ধান্ত নেন তিনি কাজ করবেন এঁদের জন্য। সেই ভাবনা থেকেই বইপত্র, পত্রিকা, টিভি অনুষ্ঠান ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি কৃষকদের সচেতন করা শুরু করেন। নাজমুল বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন কৃষকেরা কীটনাশক ও সার প্রয়োগের যথাযথ মাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে মাত্রাহীন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে নিজেদের অজান্তেই ভূমি ও পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছেন। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে তাঁরা আশানুরূপ ফলন লাভে ব্যর্থ হচ্ছেন। নাজমুলদের গ্রাম রাজশাহী জেলার বরেন্দ্র এলাকায় হওয়ায় কৃষকেরা সেচের পানির তীব্র সংকটে ভুগতেন। এজন্য তিনি বর্ষার পানি পুকুর ও খাল কেটে সঞ্চয় করতে কৃষকদের উৎসাহিত করেন। ফলে সেচকাজে পানির সংকট থেকে মুক্ত হয়েছেন কৃষকেরা। শুধু তাই নয়, প্রথাগত ফসলের পাশাপাশি নানা ধরনের অর্থকরী ফসল চাষ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে সেসব চাষে উৎসাহিত করেছেন নাজমুল। রাস্তার সরকারি গাছ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপনে উৎসাহ দিয়ে তিনি সবুজের উৎসবে শামিল করেছেন তাঁর গ্রামের মানুষদের। কৃষিকে প্রাণ হিসেবে ধরে নিয়ে তার পরিচর্যায় আত্মনিয়োগ করেছেন।SAM_0068

কৃষক পুত্র নাজমুল হক নিজের শেকড়ের সাথে প্রগাঢ় বন্ধনে জড়িয়েছেন নিজেকে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আলোক প্রদীপ হয়ে বারবার ফিরে গেছেন নিজের গ্রামে, নিজের মানুষদের ভীড়ে। এমন অনেক নাজমুল ক্রমান্বয়ে আলো হয়ে জ্বলে উঠলে বদলে যাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের রেখাচিত্র।

মো: নাজমুল হক
বিএসসি (সম্মান) ৩য়বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (উদ্ভিদবিজ্ঞান)
গ্রাম: মালপুর, গোমস্তাপুর
চাপাইনবাবগঞ্জ