এতিম শিশুদের জন্য অবারিত আলো
April 22, 2015
আড্ডা থেকে ইরার দারুণ কিছু
April 22, 2015
Show all

স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ার প্রয়াস জীবনের

কাঞ্জিলাল রায় জীবনের গল্পটা ধ্বংসস্তুপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর। মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেও যে শহরের বাঘা বাঘা স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করা যায় সে গল্প। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার অখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র জীবন প্রথম আলো- এইচএসবিসি আয়োজিত “ভাষা প্রতিযোগ” প্রতিযোগিতায় সারাদেশে প্রথম স্থান লাভ করেন।  নিজের সাফল্য উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার ব্রত নিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন আরো উঁচুতে।

17.-Kanjilal-Roy-Jibonস্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাস করে উপজেলা এলাকায়। সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তাদের বিদ্যালয় জীবন অতিবাহিত হয়। মানসিক পরিবর্তনের বয়সটিতে তারা বঞ্চিত হয় সুকুমার বৃত্তির উন্নয়নের জন্য চালানো সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে। অথচ শহুরে শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেয়ে পরবর্তীতে অনেক দূর এগিয়ে যায়। এই দুরত্ব ঘোচাতে কাজ শুরু করেছেন জীবন। তিনি বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণের কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে আটটি স্কুলের সহস্র শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি সহশিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করেছেন। এই শুভ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন তাঁর বন্ধুরাও। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য অবারিত শেখার সুযোগ। জীবন গড়ার সংগ্রামে শামিল হয়ে একজন প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য এই সুকুমার বৃত্তিগুলোর চর্চা আবশ্যক। কাঞ্জিলাল জীবনের ব্যক্তিগত সাফল্য সহশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষকরাও পাঠ্য বইয়ের বাইরের সুবিশাল জ্ঞান সমুদ্রের সন্ধান লাভে উৎসাহ দিচ্ছেন তাঁদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। জীবন বলেন, “আজকের কিশোর-কিশোরীই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যে সহশিক্ষার কার্যক্রম চালানোর আদর্শ সময় হলো বয়ঃসন্ধির সময়টা। প্রাইভেট-কোচিং ও মুখস্ত চর্চার বিষাক্ত চক্র অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীল সম্ভাবনাকে। জীবন কৈশোরের এই অপার সুন্দরের আগুনটাই উসকে দিতে চান। চান শিক্ষার্থীরা শহরের শিক্ষার্থীদের সমকক্ষতা অর্জন করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাক। তাঁর ইচ্ছে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে সহশিক্ষার কার্যক্রমগুলো উৎসাহিত করা হোক। তাহলে আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হবে আধুনিক পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিধান করতে।

কৈশোরের অশান্ত সময়টাতে সহশিক্ষা কার্যক্রম পর্নোগ্রাফি, মাদকাসক্তি ও ইভটিজিং এর মতো সামাজিক সমস্যাগুলো থেকে বিরত রাখতে পারে। সুকুমার বৃত্তির অনাগত পুষ্পের বিকাশ ঘটাতে চাইলে মফস্বলের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা উচিত। জীবনের বিশ্বাস তাতে একদিন সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো।

কাঞ্জিলাল রায় জীবন
এইচএসসি পরীক্ষার্থী
গ্রাম: দক্ষিণ তিতপাড়া (কলেজপাড়া)
ডাকঘর: ডিমলা, উপজেলা: ডিমলা
জেলা: নীলফামারী