মঙ্গল জয়ের যুদ্ধে বাঙালির রোবট ‘মঙ্গল বারতা’
April 30, 2015
কৃষ্ণচূড়ায় লাল বাঙালিয়ানার সূর্য
April 30, 2015
Show all

অন্ধজনে দেহ আলো

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বর্তমানে একটি দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নতি-র জন্য অপরিহার্য একটি শর্ত হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ প্রতিনিয়ত পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। অতিক্রম করছে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা। এ অবস্থায় খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান তানভীরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি এন্ড্রয়েড এ্যাপস উদ্ভাবন উল্লেখ করার মত বিষয়। 

সবার প্রথমে একটু ঘুরে আসা যাক সিদ্দিকুরের এন্ড্রয়েড এ্যাপস থেকে। কিভাবে কাজ করবে এই এ্যাপস। এটি এমন একটি এন্ড্রয়েড বেইজড হার্ডওয়্যার ডিভাইস যেটি কিনা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষকে তার চলার পথে নানাভাবে সাহায্য করবে। যদি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী লোকটি চলার পথে কোথাও বাঁধা পায়, তাহলে তার ব্যবহৃত এন্ড্রয়েড ফোনটি বাংলা ভাষায় ব্যবহারকারীকে বলে দিবে ওই বস্তুটি কোন জায়গায় আছে। যদি কোন অন্ধ লোক একা পথ চলার সময়ে কোথাও হারিয়ে যায় তবে তার ডিভাইসটি সে মানুষটির লোকেশন সার্ভারে পাঠিয়ে দিতে পারবে। ফলে ওই হারিয়ে যাওয়া লোকটির স্বজনেরা সহজেই জানতে পারবে সে এখন কোথায় আছে। এছাড়া ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী লোকটি তার হেডফোনের বার্টন চেপে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে জরুরী প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে সাহায্য ও নিতে পারবে। সিদ্দিকুর এ প্রতিবন্ধী ডিভাসের নাম দিয়েছেন “Android Assistant Eyemate for Visually Disabled and Blind Tracker App”. এ ডিভাইসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকের মধ্যে অন্যতম হল এটি ব্যবহার করে একজন অন্ধ ব্যক্তি নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে। এ কথা অস্বীকার করে উপায় নেই যে, আমাদের দেশের রাস্তাঘাট কখনোই প্রতিবন্ধী বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ নয়। প্রতি পদে পদেই তাদের সম্মুখীন হতে হয় অসংখ্য বাঁধার। এ কারণে বেশিরভাগ সময় অন্যের সহায়তা ছাড়া তাদের চলাচল খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে যদি এই এন্ড্রয়েড এ্যাপসটিকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয় তবে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। আর একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও লাভ করবে নিজের মত করে চলতে পারার ক্ষমতা।

সিদ্দিকুরের এ ডিভাইস শুধুমাত্র যে প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করবে শুধু তাই না, বরং এ কাজের মাধ্যমে আমাদের দেশের শিক্ষার্থী এবং প্রযুক্তিবিদেরা এরকম আরো উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবে। আর প্রযুক্তির ব্যবহারকে যদি সাধারণ জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে তা দেশের উন্নয়নের জন্য ও একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।