যুব মুক্তি সংগঠন: সমাজ গড়ার কারিগর
April 30, 2015
নবজাগরণে জাগুক সমাজ
April 30, 2015
Show all

আলোয় ভাস্বর করুণা’র পথচলা

একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য যে কয়েকটি বিষয় অন্যতম নিয়ামকের কাজ করে তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো দেশটির তরুণ সমাজ। এ ব্যাপারটা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক যে, বিগত দু-এক দশক ধরে আমাদের দেশে তরুণ সমাজের মাঝে যে বিষয়টি হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়েছে, তা হলো সমাজের প্রতি তাদের উদাসিনতা। কিন্তু কখনো দেখা যায়, এর বিপরীতে দাঁড়িয়েও কিছু সংগঠন তরুণদেরকে প্রতিনিয়ত তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখছে- এ রকম একটি সংগঠন হলো “করুণা”- যার প্রতিষ্টাতা হলো বিজন বড়ুয়ার মত একজন তরুণ ।

বিজনের হাত ধরে “করুণা” র পথ চলা শুরু হয় ২০১২ সালে চট্টগ্রাম জেলার অদূরে রাউজান থানার কদলপুর গ্রামে। সংগঠনঠির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণ সমাজকে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে মানব সেবায় উদ্বুদ্ধ করা এবং বস্তিবাসী, শিশু শ্রমিক, পতিতা, হিজড়া, বয়স্ক লোক, রিকশা চালক, ভিখারী, পথশিশু ও প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করা। এ সংগঠনটির মাধ্যমে সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী হলো মূলত সুবিধাবঞ্চিত লোকেরা। এখানে লক্ষণীয় যে, বিজনের এ সংগঠনটি শুধুমাত্র তরুণদেরকে সমাজ সচেতন করে তুলছে শুধু তাই নয়, তারুণ্যের উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে তারা দূর করছে দরিদ্র জনগোষ্টীর নানা দুর্দশা। সমাজ থেকে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্টী থেকে কুশিক্ষার অন্ধকার দূর করার জন্য তারা অনাথ ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী ও বিতরণ করে থাকে। এ সংগঠনটির খরচ মূলত উঠে আসে সংগঠনের সদস্যদের মাসিক চাঁদা এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে। “করুণা”র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর জনবল-অর্থাৎ এর কর্মীবাহিনী যাদের মধ্যে অধিকাংশই বলা চলে প্রায় পুরো অংশই হচ্ছে তরুণ সমাজ। বাংলাদেশের মত একটি দেশে যেখানে সরকারকে খুব সীমিত সম্পদের মাধ্যমে একটি বিশাল জনসংখ্যার চাপ সামলাতে হয়, সেখানে সরকার কিংবা প্রশাসন চাইলে ও অনেক সময় উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমভাবে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় করুনা’র মত সংগঠন গুলোই পারে অনগ্রসর জনগোষ্টীকে উন্নয়নের আলোয় আলোকিত করতে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, এই বিপুল অংশের উন্নয়ন ছাড়া কখনো আমাদের দেশে কখনোই সুষ্ট উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যদিকে এ কথা ও সত্য যে, দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হচ্ছে তরুণরাই। “করুনা”র মত সংগঠনগুলো-র সার্থকতা আরো বহুগুণে বেড়ে যায়, যখন দেখা যায় অনেকটা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরিই সচেতন এবং প্রধানত তারুণ্যের শক্তিকে পুঁজি করেই তারা সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের অংশীদার করছে।

“করুণা” নামের এ সংগঠনটি যদি তাদের কর্মকাণ্ড এরূপে চালিয়ে যায়, তাহলে আশা করা যায় যে, ওই অঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্টীর জীবনমান অনেকাংশেই পরিবর্তন হবে-শুধুমাত্র এ কথাটা চিন্তা করলে ও নিঃসন্দেহে “করুণা” একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্টান।