(880)-2-9111260

Blog

ছড়িয়ে পড়ুক স্বপ্নকুঁড়ির স্বপ্নগুলো

সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যান ও সুষ্ট সমাজ গঠনে সফলতার চূড়ায় পৌঁছাতে তরুণদের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশী। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তরুণরাই থাকে চালকের আসনে। তরুণ সমাজের বিরোদ্ধে একটা অপবাদ রটেছে। আজকের তরুণ-তরুণীরা নাকি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ! না আমাদের তরুণরা আত্মকেন্দ্রিক নয়। তারা হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ারের মধ্যে। সেটাও পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের স্বার্থে। কিন্তু দেশের যে কোন দুর্যোগে কিংবা কোন সমস্যায় এখনো এগিয়ে আসার মানসিকতা রয়েছে আমাদের তরুন সমাজের। এভাবেই আমরা দেখি মৌলভীবাজার থেকে উঠে আসা একটি সংগঠন, “স্বপ্নকুঁড়ি সামাজিক সংস্থা”-সামাজিক সমস্যা নিরসনের জন্য যাদের উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো।

16.-Bijoy-Rudro-Paul“স্বপ্নকুঁড়ি সামাজিক সংস্থা”- র জন্ম ২০১০ সালে মৌলভীবাজার জেলায়। সংগঠনটি সম্পূর্ণভাবে অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এ সংগঠনের প্রায় সমস্ত কাজ। স্বপ্নকুঁড়ির লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচন সমস্যার জন্য কাজ করা। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, বাল্য বিবাহ, যৌতুক সমস্যা, মাদক সমস্যা এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যা।এসব ক্ষেত্রে এ সংগঠনের সাফল্য উল্লেখ করার মতো আর তাদের এ সাফল্যের মূলে রয়েছে সংগঠনটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিশ্বাস এবং একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার তাগিদ। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গরিব শিশুদেরকে পড়ালেখা চালানোর সুযোগ করা, শিশু-কিশোর ও তরুণদের ভাল কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব যাতে তরুণদের মাঝে থেকে বের হয়ে আসতে পারে সে লক্ষ্যে তাদেরকে নেতৃত্ব সচেতন করা, মেধাবৃত্তি চালু , দুঃস্থ লোকদের মাঝে শীতকালীন কাপড় বিতরণ, পিএসসি ও জেএসসি পরিক্ষায় সফল শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদি। তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে একটি হলো স্বপ্নকুঁড়ির নিজস্ব স্কুল চালু করা যেখানে গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।বর্তমানে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে স্বপ্নকুঁড়ি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, গরিব শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সাহায্য করার জন্য বিনামূল্যে কোচিং এর ব্যবস্থা করা, ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ারের আয়োজন ইত্যাদি। তবে তাদের সবচেয়ে সাহসী উদ্যোগ হলো সমগ্র সিলেট বিভাগের স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা। আসলে স্বপ্নকুঁড়ির কাজের পরিধি বিবেচনা করলে সহজেই স্বপ্নকুঁড়ির সার্থকতা বোঝা সম্ভব।এতো পরিকল্পনামাফিক এবং সুনিয়ন্ত্রিতভাবে যদি কোন সংগঠন পরিচালিত হয় তাহলে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
“স্বপ্নকুঁড়ি সামাজিক সংস্থা”-র মত সংগঠনগুলো সমগ্র বাংলাদেশেই ছড়িয়ে পড়া উচিত, কেননা এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ কখনো সরকারের একার পক্ষে সামলানো সম্ভব না, এ ধরণের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যদি আমাদের দেশের তরুণরা দেশ গঠনে এগিয়ে আসে, তবেই সম্ভব একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। স্বপ্নকুঁড়ির স্বপ্ন ছড়িয়ে যাক গোটা বাংলাদেশে।

বিজয় রুদ্র পাল
বিএসএস
গ্রাম – ধামাই চা বাগান
(৮ নং বস্তি)
থানা ও ডাক – জুরি
মৌলভিবাজার