আলোয় ভাস্বর করুণা’র পথচলা
April 30, 2015
আলোয় আলোকিত হোক অন্ধকার
April 30, 2015
Show all

নবজাগরণে জাগুক সমাজ

যাদের উপর ভর করে আমাদের এই সভ্যতা আজ তিলে তিলে গড়ে উঠেছে তারা হলেন শ্রমজীবীরা। খুব দুঃখজনক হলে ও সত্য এই শ্রমজীবীরাই সমাজে সবচেয়ে অবহেলার পাত্র। আর এই শ্রমজীবীদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হলো হরিজন সম্প্রদায়। সমাজের এই বৈষম্য এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে অনেকের কাছেই তারা আজ অস্পৃশ্য । আর তাদের এই শোচনীয় অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে “নবজাগরণ ফাউন্ডেশন” নামের রাজশাহীর একটি সংগঠন। শুধু তাই নয়, তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে সমাজ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের সমাজ বিনির্মাণের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে এ সংগঠনটি।

“নবজাগরণ ফাউন্ডেশন”-র যাত্রা শুরু হয় ১২/১২/১২ তারিখে। বর্তমানে এ সংগঠনটির দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুল্লাহ সজীব নামের একজন টগবগে তরুণ। তাদের কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন রকম সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তরুণদের সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করা। এছাড়া ও তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও পথশিশুদের কল্যাণে কাজ করে সংগঠনটি। তবে তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো হরিজন সম্প্রদায়ের উন্নতি নিয়ে কাজ করা। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এ সংগঠনটি। সংগঠনের সদস্যদের বই বিক্রির টাকা, সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা ও ব্যক্তিগতভাবে ফান্ড সগ্রহের মাধ্যমে তারা টেনে নিয়ে যাচ্ছে এ সংগঠনটিকে । দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্রিটিশ কাউন্সিল, দি হাঙ্গার প্রোজেক্ট , ইউ এন ডি পি র বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রোজেক্ট। তাদের কাজগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করার আগে হরিজন সম্প্রদায় নিয়ে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। হরিজন সম্প্রদায় হচ্ছে তারাই যাদের জন্য আমরা অফিস-আদালত থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, সরকারী স্থাপনা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে।প্রতিদিন আমাদের বেখায়ালেই তারা বাসযোগ্য একটি পরিবেশের জন্য অমানসিক পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তারা একদিন কাজ না করলেই আমাদের মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু এতকিছুর পরে ও আমাদের সমাজে সবচেয়ে অবহেলিত সম্প্রদায় হলো তারাই। খুব দুঃখজনক হলে ও সত্য, অনেক সময় ন্যূনতম নাগরিক অধিকার থেকে ও বঞ্চিত হয় তারা। “নবজাগরণ ফাউন্ডেশন”র সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে এরকম একটি অবহেলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা, সমাজে এ নির্দিষ্ট শ্রেণীর লোকদেরকে যদি মূল স্রোতের সাথে একীভূত করা যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে এটি একটি চমৎকার কাজ হবে। বর্ণবৈষম্যের মত একটি অভিশাপ যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে না পারি, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা যতটাই স্বাবলম্বী হই না কেন, জাতির মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে এবং একইসাথে বাইরের বিশ্বের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

“নবজাগরণ ফাউন্ডেশন”-র কাজের মাধ্যমে নব জাগরণে জাগুক আমাদের সমাজ। সকল মানসিক কূপমন্ডকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ ।