আলোয় আলোকিত হোক অন্ধকার
April 30, 2015
সত্য হোক স্বপ্নকুঁড়ির স্বপ্ন
April 30, 2015
Show all

সুবর্ণগ্রামের আলোকিত মানুষেরা

দরিদ্রতার প্রকোপ কতটা নির্মম হতে পারে, সেটা একমাত্র উপলব্ধি করতে পারে একমাত্র প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজন। নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষ, জেলে, মুচি সম্প্রদায় এবং আদিবাসী, এসব প্রান্তিক এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। ২০০৩ সালে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মি শাহেদ কায়েসের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

তিনটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কাজ করে যাচ্ছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা, পরিবেশ এবং মানবাধিকার, এই তিনটি বিষয় পেয়েছে অগ্রাধিকার। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে জেলে পাড়ার করুণ চিত্র আমরা দেখেছি। এই চিত্র আবহমান কাল ধরে কোন পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যুনতম বাচার মৌলিক অধিকার থেকে এরা বঞ্চিত। মাঝে মাঝেই নদীভাঙ্গনের করাল গ্রাস এই মানুষগুলোকে করে বাস্তুচ্যুত। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে তাঁরা ঘুরে দাঁড়ায় বারবার। মেঘনা নদীর মায়া দ্বীপে বসবাসরত জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই জেলে পরিবারগুলো ১০০ টাকায় তাঁদের প্রতিদিনকার জীবন নির্বাহ করে। ফলে তাঁদের ছেলেমেয়েরা সারাজীবন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। জেলেপাড়ার ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার এই মহান দায়িত্বটি পালন করছে এই সংগঠন। পাশাপাশি মেঘনা নদীর শাহাপুর এবং ভাটিবন্দর গ্রামে বেদে সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দলিত এবং মুচি শ্রেণী সবচেয়ে অবহেলিত। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যুনতম মর্যাদা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। তাঁদের শিশুদের শিক্ষা অধিকারের পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। মায়াদ্বীপ অঞ্চলে শিক্ষার জন্য একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। চট্টগ্রাম, বান্দরবান অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আদিবাসি বাস করে। আদিবাসি হিসেবে তাঁরা অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য তাঁদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মানুষ হিসেবে তাঁরা তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংগঠনটি তাঁদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও নদী অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণে নিরলস ভাবে কাজ করছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন। চর দখল, নদী দখল, নদী দূষণ, এসব রোধ করতে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নদী অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি মনে করে, নদী বাঁচলেই, নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষজন বেঁচে থাকবে।

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন এক জ্ঞান নির্ভর সমাজব্যবস্থা। সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন একটি জ্ঞান নির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য তাঁরা মনে করে, মানুষকে তার শিক্ষার অধিকার দিতে হবে, বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার সমুহ প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আর এসব সমাজে প্রতিষ্টিত হলেই সার্থক হবে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন এর স্বপ্ন।