(880)-2-9111260

Blog

বৃহন্নলার গল্প

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জয়ী সংগঠন বৃহন্নলার গল্প আমাদের সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। বৃহন্নলাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইয়ং বাংলা তুলে এনেছে তাদের সদস্যদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা।

জানুন বৃহন্নলাকে, জানুন সমাজের অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য তাদের ভালোবাসা ও দায়িত্বের কথা গুলো:

“সমাজের অবহেলা ও গ্রহণযোগ্যতার অভাবে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ আজ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে, ঝড়ে পড়ছে বিদ্যালয় থেকে এবং রুটি-রুজির সন্ধানে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডে।

ফলশ্রুতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সমাজ এবং রাষ্ট্র নিজেই। অথচ তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষন প্রদান করে জনশক্তিতে রুপান্তর করা গেলে পাল্টে যেতো তাদের জীবনযাত্রার মান, সমাজে বাড়ত গ্রহনযোগ্যতা, ভূমিকা রাখতে পারত জিডিপিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে`।

বর্তমান সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন তাদেরকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও সেগুলোর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না । কারণ হিসেবে আমরা মনে করছি- এসব উদ্যোগে আমরা প্রতিটি কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারিনি !

বৃহন্নলা’ EDUCATION AND PROPER RIGHTS FOR THE Mx (EPRMx) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় আমরা প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিকে মডেল কমিউনিটি হিসেবে চিহ্নিত করেছি যেখানে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য থাকবে একটি বৃহন্নলা লার্নিং সেন্টার । উক্ত লার্নিং সেন্টারে তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পাবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ , উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সাক্ষর হিসেবে গড়ে তোলা হবে , মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত করার জন্য থাকবে কাউন্সেলর এবং বিশ্বজগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পাবে আইসিটি ট্রেনিং। প্রশিক্ষন শেষে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দেয়া হবে ইনিশিয়াল বিসনেস সাপোর্ট`।

এসব কার্যক্রমের বাইরেও আমরা যেটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নত করেছি সেটি হল সুষ্ঠূ কর্ম পরিবেশ । আর এই সুষ্ঠূ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যেও আমরা এই প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

আর এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কমিউনিটিকে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সমাজ থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিতে আমরা ‘বৃহন্নলা’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আমরা মনে করছি, হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির যে ধারা প্রবাহমান রয়েছে সেটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় । আর এ জন্য দরকার প্রতিটি কমিউনিটির সম্পৃক্ততা এবং সহযোগীতা।

অন্যথায় একীভূত সমাজ গঠন কিংবা এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যে স্বপ্ন আমরা দেখি সেটি আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।“