(880)-2-9111260

Blog

ভ্রমণ কন্যাদের গল্প ছড়িয়ে দিচ্ছে “Travelettes of Bangladesh-ভ্রমণকন্যা”

“Travelettes of Bangladesh-ভ্রমণকন্যা” একটি নারীদের সংগঠন যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের মেয়েদের ভ্রমণে উৎসাহিত করা। “Travelettes” এর মানে হলো নারী ভ্রমণকারী।

Travelettes Of Bangladesh – ভ্রমণকন্যা” প্রতিষ্ঠিত হয় ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তে। ডা: সাকিয়া হক এবং ডা: মানসী সাহা গ্রুপটি খোলেন একই সাথে নারী ভ্রমণকারীরদের একত্রে করার জন্যে এবং যারা ঘুরতে যেতে চাইলেও অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে যেতে পারেন না তাদের একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে।এরপরে ভ্রমণকন্যার হাত ধরে প্রায় ১৭০০ নারী ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশে ৪২ টি সফল ইভেন্টের মাধ্যমে।

“Empower women through traveling” মটো নিয়ে আমরা এখন সংখ্যায় প্রায় ২৫ হাজারের অধিক নারী সদস্যের পরিবার।ভ্রমণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা। তবে, আমাদের কাজের গন্ডি শুধুমাত্র ঘুরাঘুরিতেই রয়ে গিয়েছে তা কিন্তু নয়। বরং, আমরা ঘোরাঘুরির পাশাপাশি দেশ ও জাতির জন্য কিছু করবার প্রচেষ্টায়ও আছি। তার মধ্যে অন্যতম হলো ভ্রমণকন্যার “কর্ণফুলী প্রেসেন্টস নারীর চোখে বাংলাদেশ” প্রজেক্ট। ৪ জন নারী দুই স্কুটিতে চেপে ৬৪ জেলা ঘুরবার উদ্দেশ্য এই প্রজেক্টের।এর পাশাপাশি, প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি স্কুলে মাসিক এর সময়কার স্বাস্থ্য,খাদ্য ও পুষ্টি,বাল্যবিবাহ,আত্মরক্ষার কৌশল,সড়ক নিরাপত্তা,বাংলাদেশের পর্যটনককেন্দ্র এবং ইতিহাস নিয়ে কথা বলবে এই ৪ জন নারী।আমাদেরদেশে মাসিক এর মতন সুস্থতার লক্ষণ কে একটা “অসুস্থতা” ধরা হয়। সবার সামনে কথা বলার মত বিষয় ধরা হয় না। ‘ট্যাবু’ জাতীয় শব্দ ধরা হয়। ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ এ স্কুলগুলোতে পরিষ্কার করে বোঝানো হয় কেনো এটা অসুস্থতা নয় বরং জরুরী। মেন্সট্রেশন নিয়ে ট্যাবু ভেংগে এই প্রসংগে কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে বাচ্চাদের সাথে তা আলোচনা করা হয়,প্রশ্নের উত্তর দেয়া এবং এমতাঅবস্থায় কি করণীয় তা জানানো হয়।

এছাড়া কেউ নিজেকে বিপদ থেকে কিভাবে বাচাবে তা শিখানো হয় আত্মরক্ষার কিছু কৌশল শিখিয়ে।কারো হাত থেকে নিজের হাত ছুটানো,বা কেউ ঘিরে ধরলে কিভাবে ছুটানোর চেষ্টা করতে হয় এসব শিখানো হয় আত্মরক্ষার ওয়ার্কশপে। কি ধরনের খাবার কতোটুকু পরিমানে খাওয়া উচিৎ /অনুচিৎ তার ধারণা দেয়া হয় এবং বাচ্চাদের সাথে পরিচত করানো হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সংগে।কবে,কোথায় বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ভাষণ দিয়েছেন,কবে বুদ্ধিজীবী দিবস,কবে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় নিয়ে হয় কুইজ রাউন্ড।এর সাথে বাচ্চাদের আরো জানানো হয় দেশের মধ্যে লুকানো সৌর্ন্দযে ভরপুর স্থানগুলোর সম্বন্ধে এবং সচেতন করা হয় সড়ক দিয়ে চলাকালীন সময় কি কি করণীয় তা নিয়ে।

ইতিমধ্যে নারীর চোখে বাংলাদেশ তার কার্যক্রম ৩৩ জেলায় সফলভাবে শেষ করেছে এবং বাকি ৩১ জেলার কার্যক্রম শেষ করবার প্রস্তুতি নিচ্ছে যা অতি দ্রুত শেষ করা হবে।

এর পাশাপাশি, আমরা দেশের নতুন ফটোগ্রাফারদের প্ল্যাটফর্ম দিতে একটি ন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি এক্সিবিশন আয়োজন করেছি যেখানে সাবেক মাননীয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী “রাশেদ খান মেনন” স্যার উপস্থিত ছিলেন। এবং আমরা আমাদের দ্বিতীয় ন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি এক্সিবিশন,২০-২৪ নভেম্বর, আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।এর সাথে,নারীদের ভ্রমনে আগ্রহ বাড়াতে এবং নারী লেখকাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম দিতে আমরা প্রকাশ করছি নারীরদের ভ্রমণঅভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বাৎসরিক ম্যাগাজিন”ভ্রমণকন্যা”।তাছাড়া বিদেশী নারীভ্রমণকারীদের দেশ দেখানোর প্রচেষ্টায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি অতুলনীয় ভাবে।এই পর্যন্ত ভ্রমণকন্যার হাত ধরে Switzerland এর Corina Tomasschett এবং লন্ডনের Aliyah Yousuf বাংলাদেশ দেখেছেন।

“Travelettes of Bangladesh -ভ্রমণকন্যা” নারীভ্রমণ নিয়ে কাজ কাজ করতে থাকবে অনন্তকাল।ভ্রমণকন্যা স্বপ্ন দেখে এক সময় এদেশে নারীরাও পাখির মতন কোনো বাঁধা বিঘ্ন ছাড়া ভ্রমণ করবে,এগিয়ে যাবে উন্নত বিশ্বের দৌড়ে বহুদূর।

জয় বাংলা এ্যাওয়ার্ডে রেজিস্ট্রেশন করার মূল কারণ ছিলো আমাদের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সকল কে জানানো।আমাদের উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন ,নারীকে স্বাধীন দেখা।আমরা আজকে স্কুটি নিয়ে দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি,জানান দিচ্ছি যে চাইলেই সব সম্ভব। নারীরা সব পারে।আমরা চাই যে আমাদের মত আরো নারীরা ভয় ভেংগে ঘর থেকে বের হোক,শিখুক এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করুক।

আমরা প্রতিটি জেলায় একটা স্কুলে যাই,জরুরী বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি।আমরা চাই যে সব জেলার সবগুলো শিশু এই ব্যাপারগুলো জানুক। সবাইকে জানানো আমাদের পক্ষ্যে সম্ভব না তবে আমরা যতদূর পারছি আমরা জানাচ্ছি। জয় বাংলা ২০১৮ এ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আমরা পুরো দেশকে জানাতে চেয়েছি নারীর এই অগ্রগতির ব্যাপারে সবাই জেনে অন্তত উৎসাহ পাক।আমরা আশা করি যে আজকে আমরা যাচ্ছি,আগামীকাল অন্য কেউ যাবে আরেকটা স্কুলে জানাবে,তারপরের দিন অন্য কেউ আর এভাবেই পুরো দেশ জানবে এবং শিখবে।আর ধীরে ধীরে আমরা সকলে মিলে একসাথে জ্বলে উঠবো আকাশের উজ্জল এক নক্ষত্রের মতন।