(880)-2-9111260

Blog

প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্ম, যশোর; পথশিশুদের শিক্ষা ও পরিচর্যার লক্ষ্যে একটি অসামান্য উদ্যোগ

প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্ম গড়ে তোলার গল্প বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে প্রথম সূর্য ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার কথা। যার শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে কামরুন নাহার রুনা ও  মো: নাসির উদ্দিন রুবেলের হাত ধরে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থেকে ৮ই এপ্রিল ২০১০ থেকে (আজিজ সুপার মার্কেটের পাশে) পরিবাগের রাস্তার পাশের ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে পথ শিশুদের জন্যে প্রথম সূর্য ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী স্কুল। এই স্কুল পরিচালনা করতে গিয়ে তারা দেখলো একটা নিদিষ্ট বয়সের পর কিছু মেয়ে শিশু স্কুল থেকে এমনকি তাদের থাকার জায়গা থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে। সেই চিন্তা থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৩ তে তারা গড়ে তুলে “আমাদের ঠিকানা” নামের শেল্টার হোম যেটা উত্তরা ১০ নং সেক্টর-এর পাশে ধরঙ্গারটেক এরিয়াতে অবস্থিত। এই শেল্টার হোম পরিচালনার দায়িত্বে এই দুই বন্ধু পুরাপুরি আত্মনিয়োজিত হয়। শুরুটা হয়েছিল ১০ টা মেয়ে শিশুকে নিয়ে যেখানে এখন ২২ জন মেয়েশিশুকে তারা নিরাপত্তার সাথে পারিবারিক পরিবেশে রেখে পড়ালেখা শেখাতে চেষ্টা করছে।

শিশুদের বিনোদন, সাবলম্বি করা ও পুষ্টির চাহিদা পুরণের তাগিদে শেল্টার হোমের ছোট্ট একটু জায়গাতে কবুতর, বাজরীগার পাখি, লাভ বার্ড ও টার্কী পালন শুরু করে প্রথম সূর্য ফাউন্ডেশনএবং টার্কী থেকে অল্প সময়ে তারা একটা ভালো ফলাফল পায়। ১ বছরের মধ্যে টার্কীর পরিমান বেড়ে যাওয়ায় প্রথম সূর্য ফাউন্ডেশন আলাদা একটি খামার প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়, যার ফলাফল আজকের প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্ম। যেই ফার্ম শুরু হয়েছিল উত্তরা ১০ নং সেক্টর এর পাশে ধরঙ্গারটেক এরিয়াতে পরবর্তীতে  আরো বড় করে সেটিকে যশোর সদরের বারীনগর বাজার সংলগ্ন এরিয়াতে স্থান্তরিত করা হয়।

প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্মের উদ্দেশ্যসমূহ হলো: স্বাস্থ্যকর প্রোটিন সরবরাহ, জাতীয় প্রোটিন চাহিদা পূরণে অংশগ্রহণ, বেকারদের কর্মসংস্থান, স্বনির্ভরতা ও সামাজিক উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরীতে সহায়তা প্রদান করা।

যে কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো:
– গুনগত মান সম্পন্ন বাচ্চা উৎপাদন ও সরবরাহ
– খামার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ
– খামার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান
– নতুন উদ্যোক্তা তৈরীতে সহায়তা প্রদান
– পরামর্শ সেবা
– প্রান্তিক খামারীদেরকে বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়ে সহায়তা
– ফার্মারদের সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

তাদের অর্জনের মধ্যে অন্যতম হলো যে যশোর জেলার সবকটি উপজেলাসহ জীবননগর, দর্শণা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও খুলনা জেলার কিছু অংশে তারা নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। কমপক্ষে ৮৫৫ জন প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্ম থেকে এখন পর্যন্ত সুবিধা পেয়েছে।

সংগঠনের সাথে সাথে ব্যবসাকে বৃদ্ধি করার লক্ষে প্রথম সূর্য এগ্রো ফার্ম বর্তমানে ছোট্ট পরিসরে দেশী ছাগলের খামার এবং ১০ বিঘা জমিতে ইতোমধ্যে আমরা ভুট্টা চাষ শুরু করেছে। ২০১৮ সলে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা ক্যাটাগরি তে  জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পর প্রথম সূর্য এখন স্বপ্ন দেখে আরো বড় হওয়ার। ইয়াং বাংলা নেটওয়ার্ক উৎসাহ দেয় প্রথম সূর্যের কামরুন নাহার রুনা ও  মো: নাসির উদ্দিন রুবেলের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের যারা মানবতার সেবায় উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।