(880)-2-9111260

Blog

সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয় বাস্কেট মহিলা দলের পরিশ্রম ও সাফল্যের গল্পটি বললো রশিদা আক্তার

আমি মোছাঃ রশিদা আক্তার। আমার সংগঠনরে এর নাম ঠাকুরগাঁও সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয় বাস্কেট মহিলা দল। আমাদের সদস্য সংখ্যা ৪০ জন। আমাদের বিদ্যালয়টি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। যেখানে মেয়েরা খেলতো না এবং মেয়েদের খেলাটাকে কেউ গ্রহনযোগ্য মনে করতো না।

কিন্তু আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল যে আমরাও খেলবো। এই খেলার ইচ্ছাটাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা খেলার জগতে পা রাখি। আমরা নিয়মিত খেলতে শুরু করলাম। এই খেলা শুরু করার পর আমরা যখন খেলার পোশাক পরে মাঠে খেলা অনুশীলন করতে শুরু করলাম তখন এলাকার সব মানুষ আমাদের নিয়ে নানা ধরনের কথা বলতে লাগলো। এ কটূ কথা গুলো পরিপ্রেক্ষিতে এলাকা ও পরিবার থেকে মেয়েদের খেলা বন্ধ জন্য নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। সেই সময়ে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মাসুদ রানা স্যারের পরামর্শ আমাদেরকে খেলার জগতে এগিয়ে যেতে অনুপ্রানিত করে এবং তিনি আমাদেরকে এই ধরনের সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তখন আমরা এই এলাকার ও পরিবারের সকল বাধা ও প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেদের উত্তরোনের জন্য ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করি। তখন আমরা প্রচুর পরিশ্রম শুরু করি। এই কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমরা সাফল্যের দারপ্রান্তে পৌছাঁই।

২০১৭ সালে মহিলা হকিতে আমরা বাংলাদেশ “রানারআপ” হই। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ যুব গেমস্ এ আমরা মহিলা বাস্কেটবল এ রানার আপ ও একই বছরে জাতীয় স্কুল ও মাদ্রারাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করি। বর্তমানে সমাজ থেকে কুসংষ্কার ও বাধাগুলোকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একসময় যারা আমাদেরকে খেলার জন্য বাধা প্রদান করতো এখন তারা নিজেই এসে আমাদেরকে উৎসাহ প্রদান করছে।

আমরা বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে “জয় বাংলা ইউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮”এর জন্য বিভিন্ন উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠানের আবেদন পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমরা তখন সেই আবেদন পত্রটি গ্রহন করে সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয় বাষ্কেটবল মহিলা দল নামে পূরন করে জমা দেই। তার পর থেকে ঈজও এর প্রতিনিধিরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ও বিভিন্ন রকমের তথ্য ও সাক্ষাৎকার গ্রহন করে।

আমাদের সংগঠনের টি জয় বাংলা ইউথ অ্যাওয়ার্ডে সেরা পঞ্চাশ-এর মধ্যে মনোণিত হয়ে। এই অ্যাওয়ার্ড আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রানিত করে ভাবতে শিখিয়েছে আমাদের জীবনকে নতুন করে গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এতো বাধা পেরিয়ে, এতো কষ্টের মধ্যে যে এতো আনন্দ নিহীত ছিলো তা জয় বাংলা ইউথ অ্যাওয়ার্ড এর মঞ্চে আমি অনুভব করেছিলাম। যে এটাই আমার ও আমার দলের জয় বাংলা।