(880)-2-9111260

Blog

স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন

বৈষম্য এবং ধনী দরিদ্র বৈষম্য হ্রাস করে সাম্যতা আনয়নে স্বপ্নযাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালের ১লা এপ্রিল । আনোয়ারা থানার মালঘর গ্রামের তরুণ সংগঠক কামাল হোসেন চৌধুরী স্বপ্নযাত্রীর প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রতিষ্ঠাতা।

স্বপ্নযাত্রীর উদ্দেশ্য “সুন্দর আগামীর জন্যে”, “মানবতার টানে,পাশে আনে” এই স্লোগান কে বুকে ধারণ করে পথ চলা এবং প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য হ্রাস করা। কিন্তু পরিবেশটা ছিল প্রতিকূলে।তবুও কিছু সৎ,নির্লোভ, নিরহংকার, নিরলস সদা মানবতার তরে কাজ করে যাওয়া স্বপ্নবাজ তরুণদের নিয়ে এগিয়ে গেছে স্বপ্নযাত্রী। তারা ভয় পাইনি,তারা অদম্য সাহসী ছিলেন।তারা মানবতা জয় করেছেন উত্তরবঙ্গে কুড়িগ্রামের বন্যাকবলিত বিপন্ন মানুষদের সাহায্য দিয়ে।তারা ছুটে গিয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে দুই দুইবার ত্রাণ নিয়ে,মসজিদ, টিউবওয়েল এবং সেনিটারী নিয়ে। রাঙামাটির পাহাড়ধ্বস, তাদের আগে পৌছেনি কেওই। রাতের গভীরে ঘুম হারাম করে অসহায় লোকজন,অভুক্ত-অনাহারে থাকা পথশিশুদের অলিতে গলিতে খুঁজে বের করে খাবার তুলে দিয়েছেন মুখে।অন্ধকারাচ্ছন্ন অজোপাড়ার গ্রাম আলোকিত করেছে তারা। এরাই তরুণ, এরাই স্বপ্নবাজ। নির্দ্বিধায় বলা যায় এরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। বর্তমানে স্বপ্নযাত্রীর সদস্য সংখ্যা ৭০জন।স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা ১০০জন,ফুডব্যাংকের সদস্য ৬৫জন এবং ব্লাড ডোনারসের সদস্য ৬৫ জন।সর্বমোট ৩০০জন। শুভাকাংখী ও ভোলান্টিয়ার আছেন প্রায় ১হাজার। বর্তমানে এর দুটি শাখা রয়েছে: স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন রাঙামাটি শাখা এবং স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ শাখা।

স্বপ্নযাত্রীর স্বপ্নযাত্রীর কার্যক্রমসমূহ ও কাজের বিস্তৃতি উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় কে তুলে ধরে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১। শিক্ষা: শিক্ষাক্ষেত্রে স্বপ্নযাত্রী ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে।নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং শিক্ষিত দেশ গড়ার লক্ষ্যে রাঙামাটি তে প্রতিষ্টা করা হয় বিনামূল্যের স্কুল “স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ ১”। যেখানে নিয়মিত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান চলছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে স্কুলে শিক্ষাসামগ্রী ও স্কুল ড্রেস বিতরণ কর্মসূচি,সাধারন জ্ঞান,রচনা, চিত্রাংকন,সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতা এবং শিক্ষা উপকরন বিতরন কর্মসূচী।
২। চিকিৎসা : ব্লাড সংগ্রহ,ব্লাড ডোনার ম্যানেজ,ব্লাড গ্রুপিং নির্ণয়ে কাজ করছে “স্বপ্নযাত্রী ব্লাড ডোনারস গ্রুফ” যা ইতিমধ্যে ৪টি ব্লাড ক্যাম্পেইন সম্পন্নের মাধ্যমে ২০০০+ মানুষকে গ্রুপ জানাতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রায় ২হাজার জনের রক্ত সংগ্রহে ভুমিকা রেখেছে ।এছাড়া খতনা ক্যাম্প,আই ক্যাম্প সহ অনান্য চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে।
৩। খাদ্য: এতিম, অভুক্ত, অনাহার-অসহায় হাজারো পথশিশু, পথচারীদের খাবার যোগানের লক্ষ্যে কাজ করছে “স্বপ্নযাত্রী ফুড ব্যাংক”। যা এরইমধ্যে ১বছর পূর্ণ করেছে এবং ৩৬টি ইভেন্টের মাধ্যমে ৩০০০+ মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।বিযে জন্মদিন, পার্টি ইত্যাদির খাবার শত রাত হোক, ঝড় বৃষ্টি,শীত উপেক্ষা করে এ খাবার বিনামূল্যে পৌছে দেন স্বপ্নযাত্রী টিম।
৪। সচেতনতা: মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী র‍্যালি,উল্লেখযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস সমূহে ভিন্নধারার কর্মসূচীর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেই চেতনাই উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়।পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা এবং চারা বিতরন করা হয।মানবিক গুসাবলী বিকাশ,নৈতিক মানোন্নয়ন ও দেশপ্রেম সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে।
৫। জরুরী সেবা: বন্যা,জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড় ধ্বস,অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এবং রোহিঙ্গা ইস্যু যেখানেই মানবতাব বিপন্ন সেখানেই স্বপ্নযাত্রী পরিবার তৎক্ষণাৎ হাজির। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া এ কাজ বিস্তৃত। রংপুরের কুড়িগ্রাম, রোহিংগাদের মাঝে,রাঙামাটির পাহাড় ধ্বসে,আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে এবং মোরা আক্রান্তদের মাঝে ত্রান বিতরন অন্যতম।
৬। মহানুভবতার দেয়াল সহ মানবিক বিভিন্ন কাজে এই পর্যন্ত ১৩০+ প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছে স্বপ্নযাত্রী। এলাকার লাইটিং প্রোগ্রাম, রিকসাওয়ারাদের মাঝে রেইনকোর্ট বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, বিবাহ সহায়তা, স্থায়ী কর্মসংস্থান সহায়তা

স্বপ্নযাত্রীর সাম্প্রতিক প্রজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
• স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১: রাঙ্গামাটির শান্তিনগর এলাকায় ৪১ জন অসহায় ও অবহেলিত শিশুদের নিয়ে ২য় বছরের মত পাঠদান প্রকল্প চালু হয়। সম্পূর্ণ বিনাবেতনের এই প্রতিষ্ঠানের বাচ্চাদের ফ্রি শিক্ষা উপকরন প্রদান করা হয়। সপ্তাহে ৬ দিন (শুক্রবার ব্যতিত) সকাল ৮ টা থেকে ১টা পর্যন্ত ২ ঘন্টা পাঠদান করা হয়। আর্থিক সংকটের জন্য স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেয়া আজো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের বাস্তুহারা এবং ছিন্নমূলে ২টি বিদ্যাপীঠ চালু করা প্রক্রিয়াধীণ।
• স্বপ্নযাত্রী ফুড ব্যাংক: খাদ্যভাবে অনাহরে অভ্ক্তুদের মাসে খাবার তুরে দেয়া এবং খাবার অপচয় রোধে করে মানবি গুনাবলী বিকাশে স্বপ্নযাত্রী ফুড ব্যাংক কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৪২ টি ইভেন্ট ৩২০৪ জনকে খাবার বিতরন সম্ভব হয়েছে।
• সাবলম্বী প্রজেক্টঃ ফুড ব্যাংকের খাবার বিতরন করতে গিয়ে ভিক্ষুক পরিবারকে খুজে পাই। বিধাব মহিলা ২ এতিম শিশুকে নিয়ে কিছু করতে চান, তাহাকে পিঠা বিক্রয় করার উপকরন ও সরজ্ঞাম ক্রয় করে সাবলম্বী হতে সযোগিতা করি। বর্তমানে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ব্যবসা করছেন। এটি ধারাবাহিক ভাবে চলমান থাকবে।
• চারা বিতরনঃ ৩০ লক্ষ শহীদের স্মরনে ৩০ লক্ষ চারা বিতরনের অংশ হিসাবে আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ফলজ গাছের চারা বিতরন করি।
• শীত বস্ত্র বিতরনঃ প্রায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়। চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি এবং মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের মাঝে ও শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়।
• মাদক ও জঙ্গী বিরোধী র‌্যালী: মহান বিজয় দিবসে মাদক ও জঙ্গী বিরোধী র‌্যালী ও শপথ অনুষ্ঠীত হয়।
• প্রতিবন্ধী সহায়তাঃ ৫০ জন প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরন প্রদান করা হয়।
• মহানুভবতার দেয়ালঃ অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত কাপড় ওখানে রেখে যাবেন এবং যাদের দরকার নিয়ে যাবেন বিনামূলে। রাঙ্গামাটির আলফেসানী স্কুলে ওটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আরো ৫ টি প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াধীন।

২০১৮ এ স্বপ্নযাত্রী অর্জন করে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। এই সম্মাননার ফলে স্বপ্নযাত্রীর কাজের স্পৃহা অনেকগুণ বেড়ে যায়। স্বপ্নযাত্রী আশা করে এ প্রাপ্তির ফলে আমাদের কাজের গতি বেড়ে যাবে, কেটে যাবে সকল প্রতিবন্ধকতা।